হিজাব প্রসঙ্গ আসলেই হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া (পুরুষ/মহিলা) সুরা নুর এর ৩১ নং আয়াত থেকে শুরু করেন। কোন এক বিচিত্র কারণে ৩০ নং আয়াতটা উল্লেখ করতে তারা ভুলে যান! আপনাদের সুবিধার্থে আয়াত দুইটি… উল্লেখ করলাম[“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। এবং ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন ……….” (২৪ :৩০ -৩১) ]তারা (যারা হিজাব প্রসঙ্গে কথা বলেন) ভুলে যান যে, ৩১ নং আয়াতটা শুরু হয়েছে ‘এবং’ [ এরাবিক এ ‘ওয়া’ ] দিয়ে। যখন কোনো সেন্টেন্স ‘এবং’ দিয়ে শুরু হয়, তার অর্থ হল আগের সেন্টেন্সটা পরের সেন্টেন্স এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সমান গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ: আমি লিখলাম “অমুক ভাই/আপা একজন সৎ ও অমায়িক মানুষ এবং ছেলে-মেয়েদেরকে সৎ ও অমায়িক হতে শিক্ষা দেন”এখানে ‘এবং’ দিয়ে আমি যে সেন্টেন্স দুটো যুক্ত করেছি, তার দুটোই গুরুত্বপূর্ণ আর পরস্পরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রথমটা না হলে পরেরটা যেমন সম্ভব না (একজন সৎ ও অমায়িক মানুষ ই শুধু অন্যকে এই শিক্ষা দিতে পারে) তেমনি পরেরটা তখনি বাস্তবের মুখ দেখবে যখন প্রথম কন্ডিশন কার্যকর হবে (কারণ, আমরা সবাই জানি যে বাচ্চারা যা কিছু দেখে সেটাই শেখে)
আয়াত দুটি পড়ে দেখুন, ঈমানদার মেয়েদেরকে হিজাব পড়তে বলার আগে ছেলেদের হিজাবের কথা বলা হয়েছে। কুরআনের প্রতিটা আয়াত এবং তার ক্রনোলজি ইম্পর্টেন্ট। আল্লাহ সুবাহান’তালা আমাদেরকে বানিয়েছেন, তিনিই শুধু জানেন কার দুর্বলতা কোথায়? ছেলেদের বড় দুর্বলতা কোন কোন বিষয়ে সেটাও তিনি উল্লেখ করেছেন এবং তার মধ্যে সর্ব প্রথম হলো মেয়ে [সুরা আল-ইমরান ৩:১৪ দ্রষ্টব্য]
তারপরও আল্লাহ সুবাহানতালা মুমিন ছেলেদেরকে তাদের চোখ সংযত করতে বলেছেন এবং আল্লাহ জানেন সত্যিকারের মুমিনরা তা করতে সক্ষম। এবং তার উদাহরণও পবিত্র কুরআনে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে [সুরা ইউসুফ দ্রষ্টব্য]









