আমরা কেন দু’য়া করব?

আমরা কেন দু'য়া করব?সৃষ্টিকুলের প্রত্যেকেই অভাবী এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তার মুখাপেক্ষী।
আর আল্লাহ তা’আলা অভাব মুক্ত – তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।

আল্লাহ তালা আমাদের উপর আবশ্যক করে দিয়েছেন, আমরা তাঁর কাছে দু’য়া করব।
আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমাকে ডাক আমি ডাকে সাড়া দিব। নিচ্ছয় যারা আমার ইবাদত করতে অহংকার প্রদর্শন করে; অচিরেই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।”
(সুরা গাফের: ৬০)

এ আয়াতে “ইবাদত করতে” অর্থ হচ্ছে দু’য়া করতে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না তিনি তার প্রতি রাগান্বিত হন”
(তিরমিজি)

তাছাড়া বান্দা আল্লাহর কাছে চাইলে, তিনি তার প্রতি খুশি হন। যারা বার বার তাঁর কাছে ধর্ণা দেয়, তিনি তাদের ভালোবসেন এবং তাদেরকে নিকটবর্তী করে নেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবিগণ এ বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন, তাই তুচ্ছ বিষয় হলেও আল্লাহর কাছে চাইতেন।

আল্লাহর নিকট দু’য়ার বিশেষ একটি স্থান আছে, বরং দু’য়া আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সন্মানিত বিষয়।

দু’য়া কবুলের অন্তরায় সমূহ:

  • দু’য়াতে এখলাস না থাকা।
  • আল্লাহর সাথে শিরক করা।
  • অবৈধ কারবার করা, ভেজাল দেয়া।
  • সুদ খাওয়া।
  • অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করা।
  • ঘুষ নেওয়া।
  • দু’য়াতে সীমালঙ্ঘন করা।
  • অবৈধ বা বিদ্‌য়ী দু’য়া করা যথা-মৃত বা কবরস্থ ব্যক্তির অসীলা গ্রহণ করে দু’য়া করা ।

উল্লেখিত প্রত্যেকটি বিষয় স্বতন্ত্র ভাবে দু’য়া কবুলের অন্তরায়।

অতএব প্রত্যেক মুসলমানের উপর অবশ্য কর্তব্য হল, সে যেন দু’য়া কবুলের যে কোন অন্তরায় থেকে নিজেকে দূরে রাখে

দু’য়া উত্তম সময় ও স্থান:

  • আরাফা দিবস
  • রমযান মাস
  • জুমার দিন
  • কদরের রাত
  • প্রত্যেক রাতের শেষাংশ
  • সালাতে সেজদারত অবস্থা
  • আযান ইকামতের মাধ্যবর্তী সময়
  • সফরকালীন সময়
  • সিয়ামের সময়
  • অসহায়ত্বের সময়
  • হজ্বের সময় – বিশেষভাবে তাওয়াফ সায়ীর সময়
  • জামরাতে পাথর নিক্ষেপের পর।

পবিত্র অবস্থায় কেবলামূখী হয়ে হাত তুলে দু’য়া করা: দু’য়া শুরু এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর সালাত ও সালাম পেশ করা।

বৈধ দু’য়া কতিপয় উদাহরণ

  • ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের জন্য দু’য়া করা।
  • সন্তান সঠিক ও সৎ পথে চলার জন্য দু’য়া করা।
  • অসুস্থ ব্যক্তির শেফা ও পুরুস্কার প্রাপ্তির দু’য়া করা।
  • উপকারকারী ব্যক্তির জন্য দু’য়া করা।
  • মুজাহিদ ও সাধারণ মুসলমানের জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের দু’য়া করা।

হে আমাদের রব! আপনি আমাদের থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। আর আপনি আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, দয়ালু।

আমীন

One thought on “আমরা কেন দু’য়া করব?

  1. অনলাইনে অবমুক্ত হলো,
    ..
    আরববিশ্বসহ পুরোবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ “পরকাল”..
    কুরআন-হাদিসের আলোকে মৃত্যু, কেয়ামত, পুনরুত্থান, হাশর, মিযান, সিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনাসমৃদ্ধ সচিত্র গ্রন্থ..
    ..
    মূল, ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আরিফী
    ..
    ভাষান্তর ও বিন্যাস,
    উমাইর লুৎফর রহমান
    ..
    সম্পূর্ণ বই ডাউনলোড করুন (সফ্ট কপি)https://www.dropbox.com/s/36itcrkcr2p6v3i/%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2.pdf?dl=0&preview=%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2.pdf

Leave a reply to Umair Lutfor Rahman Cancel reply