গোটা রমজান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রহমত। দুয়ার ভিত্তিতে রমজানকে তিন ভাগে ভাগ করা একটি বিদাত

রমজান মাসের প্রতি দিন বা রাতে পড়ার জন্য বিশেষ কোন দু’আ নেইপ্রথম দশদিনরহমত দ্বিতীয় দশদিনমাগফিরাত তৃতীয় দশদিনজাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি। এই ভাবে রমজানকে তিন ভাগে ভাগ করে – একেক ভাগে রহমত, মাগফিরাত আর জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির দুআ করা- বিদআত। শরিয়তে এর কোন ভিত্তি নেই..

গোটা রমজান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রহমত গোটা মাসেই মাগফিরাত জাহান্নাম থেকে নাজাত হয় রমজান মাসের বিশেষ কোন অংশ মর্যাদাগুলোর কোন একটির জন্য খাস নয় এটি আল্লাহর বিপুল রহমতের নিদর্শন

ইমাম মুসলিম (১০৭৯) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “যখন রমজান মাস আসে তখন রহমতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় শয়তানগুলোকে শিকলাবদ্ধ করা হয়

তিরমিযি (৬৮২) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “রমজানের প্রথম রাত্রিতে শয়তান অবাধ্য জ্বিনগুলোকে বন্দি করা হয় জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় জাহান্নামের কোন দরজা খোলা রাখা হয় না জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় জান্নাতের কোন দরজা বন্ধ রাখা হয় না একজন আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে কল্যাণ অন্বেষী আগোয়ান হও ওহে, মন্দ অন্বেষী তফাৎ যাও আল্লাহ প্রতি রাত্রিতে কিছু মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে দেন[আলবানী সহিহ তিরমিযি গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]

এর ভিত্তিতে বলা যায়: রমজানের প্রথম দশদিনে রহমতের দু করা, মাঝের দশদিনে মাগফিরাতের দু করা, শেষের দশদিনে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য দু করাবিদআত শরিয়তে এর কোন ভিত্তি নেই ধরনের বিশেষ দুআর কোন অবকাশ নেই; যেহেতু এক্ষেত্রে রমজানের সকল দিন সমান বরং একজন মুসলিম গোটা রমজান মাসব্যাপী দুনিয়াআখেরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করে আল্লাহর দরবারে দু করবে প্রার্থনার মধ্যে রহমত, মাগফিরাত, জাহান্নাম থেকে মুক্তি জান্নাত লাভের দুআও থাকবে

একজন মুসলিমের উচিত কল্যাণ বরকতের মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে মাসে কল্যাণ রহমতের দু করা আল্লাহর রহমত তাঁর ক্ষমা প্রাপ্তির উদ্দেশ্য নিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি ঈমান আনা তাদের একান্ত কর্তব্য যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে[সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬]

সিয়ামের হুকুম আহকাম বর্ণনার মাঝখানে দু করার প্রতি উদ্বুদ্ধকারী আয়াতে কারীমাটি উল্লেখ করার মধ্যে মাস পূর্ণ হওয়ার সময়; বরঞ্চ প্রতিদিন ইফতারের সময় অধিকহারে দু করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে [তাফসিরে ইবনে কাছির (/৫০৯)]

বিস্তারিত দেখুন : http://islamqa.info/bn/220647

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s