এত কিছুর পরও তওবার দরজা খোলা

তওবার দরজাদয়া – কে পেয়েছে? – যে সফল হয়েছে
সফলকাম কে? – সাফল্য পেয়েছে কে?
কে কামিয়াবি হয়েছে?
যার নেকির পাল্লা হয়েছে ভারী
যে অবলম্বন করেছে তাক্বওয়া ..

যার নেকি হয়েছে অগণিত, তার কাঁধ হয়ে যাবে আদম (আ:) এর মতো চওড়া , সোন্দর্য হবে ইউসুফ (আ:) এর মতো, অন্তর পাবে আইউব (আ:) এর, ইসা (আ:) মতো বয়স আর দেহ সৌষ্ঠব, দাউদ (আ:) এর মতো কন্ঠসর আর চরিত্র হবে মহা নবী (সা:) এর। ছয় নবীর গুনাবলী, সুবাহান আল্লাহ …

সফল ব্যক্তির দুনিয়া থেকে বিদায় কতই না মধুর, জারির আত-তাবারী বর্ণনায়, আব্বাস (রা:) থেকে উদ্দৃত, যখন একজন ধার্মিক মারা যান, তখন পৃথিবীতে যে স্থানে তিনি সালাতের সেজদা করতেন সেই স্থানটি আর আকাশের যে জায়গা দিয়ে তার নেকি গুলো আরোহন করত – সেই জায়গা তার জন্য কান্নাকাটি করে। (তাফসির আত-তাবারী), যার জন্য মাটি আর আকাশ কাঁদে, সে না কতো সৌভাগ্যবান, মহা প্রভু তাকে মাফ করে দিয়েছেন। সফলতা এসেছে চির দিনের … সুবাহান আল্লাহ ..

আর যে দয়া পাই নি?
সে কি দয়ার আশায় বসে আছে?
দয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে?
দয়া কবে আসবে?
তা কি অনেক নিকটে?
দেরী হয়ে যাচ্ছে না তো?

আমদের এত অহংকার কিসের?
আমরা কেন তওবা করি না?
আমরা সবাই পাপী।

আল্লাহ বলেন, মানুষ কি জানে না, যে তাকে এক ফোঁটা তুচ্ছ পানি দিয়ে তৈরী করা হয়েছে? আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেন, তোমাদের ভেতর থেকে যে ছিটকে আসা পানি বেরিয়ে আসে, দেখেছো? ওগুলো কি তোমরাই তৈরি করো, না আমি তৈরি করি?

অহংকারীদের তওবার দরজা আল্লাহ সবসময়ই খুলে রেখেছেন, এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতসমূহের মধ্য থেকে একটি নেয়ামত এই যে, তিনি তওবার দরজা বন্ধ করেন নি। বরং জীবনের প্রতি মুহূর্তেই তওবার প্রতি মানুষকে উৎসাহ দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা যাকে অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন তাকে সর্বদা সন্দেহাতীতভাবে তাওবার প্রতি গুরুত্ববহ থাকতে আদেশ করেছেন।

তওবার প্রতি আল্লাহ্ তা‘আলার উৎসাহ প্রদানের জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, তিনি তওবাকারীর গোনাহগুলোকে নেকী দ্বারা রূপান্তর করে দেবেন। সুবাহান আল্লাহ ..

আল্লাহ বলেন: “কিন্তু যারা তওবা করেছে এবং ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, এদের গোনাহগুলোকে আল্লাহ তা‘আলা নেকী দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” [সূরা আল-ফুরকান: ৬৯]

আল্লাহু আকবার

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “যখন বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। যখন সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয় তখন আমি তার দিকে দু’হাত অগ্রসর হই। আর যখন সে আমার দিকে হেঁটে আসে তখন আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।” (বুখারীঃ ৭৫৩৬, মুসলিমঃ ২৬৭৫)

সুবাহান আল্লাহ – আমাদের প্রভু কত বড় নিয়ামত পূর্ণ ..

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঈমানের স্বাদ ঐ ব্যক্তি আস্বাদন করেছে, যে সন্তুষ্ট হয়েছে আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদকে রাসূল হিসেবে পেয়ে।” (সহীহ মুসলিম ১/৪৭, হাদীস : ৩৪

মহান আল্লাহ বলেন, “যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।” (বাকারা: ২২)

আমরা আল্লাহকে কতইনা অপজ্ঞান করি, তারপরও উনি আমাদের জন্যে কত দয়ার সংস্থানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন ..

সূরা আদ দোখান এ আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল পরিস্কার ভাবে বলে দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। তিনি আমাদের পালনকর্তা এবং আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃ-পুরুষদেরও পালনকর্তা, এতদসত্ত্বেও, আমরা সন্দেহে পতিত হয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করি, আল্লাহকে তাচ্ছিল্য করি, আল্লাহর আদেশ সহজে মেনে নিতে চাই না, নানা রকম বিশ্লেষণ করি আল্লাহর আয়াতের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য, অথচ আমাদের কাজ বিনা বিশ্লেষণে, ওগুলো মেনে নেয়া।

আল্লাহ বেশি জানেন
না আমরা?

আমি দেখেছি, অনেকে আল্লাহ শূকরের মাংস কেন খেতে মানা করছেন, এই নিয়ে, নানা গবেষণায় পরে যান, অথচ আমাদের যা উচিত সেটা হলো , আল্লাহর নির্দেশ বিনা জেরায় মেনে নেয়া। একই কথা আসে জুয়া খেলা, মদ খাওয়া, মাদক দ্রব্য সেবন ইত্যাদিতে। আল্লাহ বলেন, “মদ এবং জুয়া দিয়ে শয়তান শুধুই তোমাদের মধ্যে শত্রুতা এবং ঘৃণা তৈরি করতে চায়, এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ করা এবং সালাত আদায় থেকে ভুলিয়ে রাখতে চায়। তারপরেও কি তোমরা এগুলো ছেড়ে দেবে না?” [আল মায়িদাহ ৫:৯১]

ইদানিং নাস্তিক ব্লগার, মিতা হকের বা শাহারিয়ার কবিরের হিজাব নিয়ে কটুক্তি, ইসলাম কে কটাক্ষ করে ফেইসবুক পেজ তৈরী, মহা নবী (স:) কে নিয়ে ব্যঙ্গ করে ফেইসবুক পেজ তৈরী, ব্রাক ইউনিভার্সিটি তে হিজাব ব্যান ইত্যাদির হিড়িক পরে গেছে।

মনে হচ্ছে এই দুনিয়াতে সবাই চিরতরে থাকবে।

কেহকে কবরে যেতে হবে না।
এই দুনিয়াই শেষ।
সুবাহান আল্লাহ।
আমরা অবুঝ।
সত্যিই অবুঝ।

এদের আন্তরিক অনুতাপ অত্যন্ত জরুরী।
তওবা করতে হবে, অনেক বিশাল তওবা ..
অনেক তথাকথিত মাথাত্তয়ালাদের ও আল্লাহ – রসুল সম্পর্কে আজে বাজে মন্তব্য করতে দেখা যায়।

ড: শহীদুল্লাহ বলেন “তোমাদের যত বড় বড় পি এইচ ডি ডিগ্রী আর সার্টিফিকেট থাকুক না কেন, যদি আল্লাহ আর রসুল (সা:) এর সাথে সম্পর্ক না থাকে তাহলে তোমরা মূর্খ, গন্ড মূর্খ” – এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সেদিন একটি ইসলামিক টিভি চ্যানেল এ, প্রশ্ন উত্তর পর্বে, শেখ বলছিলেন, আল্লাহ তাঁর উপর মানুষের নানা ধরনের অপবাদের ব্যাপারে অনেক সহিষ্ণুতার পরিচয় দেন, কিন্তু মহা নবীর (সা:) উপর অপবাদ, সহজে মেনে নেন না।

সুবাহান আল্লাহ – একবার যদি চিন্তা করে দেখেন, খ্রীষ্টানরা বলে ইসা (আ:) আল্লাহর সন্তান, নাউজুবিল্লাহ।

আল্লাহ কত ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন এ ব্যাপারে..

আর আমাদের দেশের অনেক মুসলিম ভাই মহা নবী (স:) কে নিয়ে ব্যঙ্গ করে ফেইসবুক পেজ তৈরী করে বসেআছেন, এ রকম একটা পেজ, আমি নিজে দেখেছি, ৮০০ -র উপর “লাইক” ও পরেছে … আমরা কোন দিকে যাচ্ছি? ভয়ে আছি, অতীব ভয়ে ..

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘হে মানবসকল! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর, আর আমি দিনে তাঁর নিকট একশত বারের বেশি তাওবা করে থাকি’’ [সহীহ মুসলিম : ৭০৩৪]

আমাদের সকলের সঙ্গী হিসেবে শয়তান অনেক ধৈর্য্যর পরিচয় দেয়। উস্তাদ নোমান আলী খান বলেন “শয়তান আসলে খুবই ধৈর্য্যশীল। সে প্রথমবারের চেষ্টাতে আপনাকে বিপদগামী করতে পারে না। সে ধীরে ধীরে অতি সংগোপনে বার বার আসতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আপনার চরিত্র পুরোপুরি ধ্বংস করছে..”

শয়তানে সম্পর্কে, সুরা বাকারার ২৬৮ আয়াতে, আল্লাহ বলেন “শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।”

আল্লাহ তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।
কাজেই আল্লাহর ক্ষমাশীলতার কাছে শয়তান পরাজিত …
এ গ্রেট লুজার।

সবাইকে চলে যেতে হবে এই দুনিয়ার মোহো ছেড়ে …
সাকারাতুল মওত, কবরের জীবন (বার্জাহ লাইফ) ….
সব কিছুই জীবিত সকল আত্মার সামনে পরে রয়েছে …

একটি দুর্ভেদ্য দুর্গের পিছনে লুকিয়ে বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পিছনে আশ্রয় গ্রহণ করে মৃত্যু কে এড়ানো যাবে না।এই বিশ্বের সেরা সমস্ত ডাক্তার দের একত্রে জড় করে, কোটি কোটি টাকা খরচ করেও না। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সবাই এখানে থাকবে, তারপর চলে যেতে হবে, ওবামা, হাসিনা, বিল গেট কেউ বাদ যাবে না। সময় যখন আসবে এক সেকেন্ড ও মৃত্যুকে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা যাবে না।

আমরা কি প্রস্তুত?
তওবা করব কখন?
মৃত্যুর অন্তিম মুহুর্তে?
সকারাতুল মওত অর্থাৎ মৃত্যুর প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়ে যাবে তখন তো আর হবে না ..
আর যদি আকস্মিক মৃত্যু আসে?
তওবা জন্য অনুতপ্প্ত হতে হবে

সম্পূর্ণ ভাবে নিজেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেতে হবে
কানেক্ট করতে হবে অন্তর দিয়ে
তওবা সালাত আদায় করতে হবে
মাত্র দুই রাকাত তওবার সালাত
তার পর আর সেই কাজের আসে পাশেও যাওয়া যাবে না, নামাজের কোনো নিয়ত লাগবে না, অজু করে দাঁড়িয়ে যান, আল্লাহ আপনার অন্তরের খবর জানেন।

প্রাসঙ্গিক ভাবে এখানে আর একটি বিষয় বলতে হয়, সালাত আরম্ভের আগে যেকোন নিয়ত মুখে উচ্চরণ করে পড়া হাদিস থেকে প্রমাণিত নয়। মনে মনে ইচ্ছা পোষন করাই নিয়ত। আমাদের দেশে এমন অনেক লাখো মানুষ আছে যারা নিয়ত মুখস্ত নাই বলে সালাতে হাজির হয় না। অথবা মনে করে নিয়তের দোয়াটি না পড়লে সালাত হবে না। আর প্রতি সালাতের ভিন্ন ভিন্ন নিয়ত প্রচলিত আছে। তাই এটি মুখস্ত করে মনে রাখাও কঠিন। অথচ এর পক্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোন দোয়া কাউকে শেখানো হয়নি।

“আল্লাহু আকবর” (তাকবীরে তাহরীমা) বলে সালাত শুরু করাই যথেষ্ট হবে..

শেখ আল ইসলাম ইবনে তেমিয়াহ বলেন, যে সমস্ত প্রার্থনা কোনো বিশেষ কারণের জন্য করা হয়, সেগুলো বিলম্ব করা মোটেও ঠিক না। যেমন, অজুর নামাজ, মসজিদ অভিবাদনের নামাজ, ইসতিখারার নামাজ, ইত্যাদি, একই অভিমত তওবার সালাতের বিষয়ে।

আল্লাহ তওবার দরজা সবসময় খুলে রেখেছেন ..

হে আল্লাহ! আমার ক্বলবে তাক্বওয়া দান কর এবং তাকে পাক করে দাও, তুমি সবচাইতে পাক-পবিত্রকারী। তুমি তার অভিভাবক ও মালিক। হে আমাদের রব! তুমি আমাদিগকে দুনিয়া ও আখেরাতে মঙ্গল দান কর। আর জাহান্নামের শাস্তি হতে আমাদের রক্ষা কর।

আমিন

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s